নেত্রকোনায় প্রায় ১০ হাজার শিশু প্রতিবন্ধী চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লোকবল ও অর্থসংকটের কারনে সরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না তারা। ব্যায় বহুল হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকেও চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না তাদের ।
তের বছরের মুরাদ, আট বছরের জয় । সদর ঊপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের ফরিদা আক্তার খাতুনের দুই সন্তান। চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি মুরাদের। চার বছর বয়সের জয়ও বড় ভাই এর মতো হাটতে না পারায় স্কুলে যাওয়া
হয়নি। তাদের মাকেই সব কিছু করে দিতে হয়। দরিদ্র মায়ের পক্ষে তাদের চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনিশ্চিত ভবিষ্যতকে সামনে রেখে তাদের দিন কাটছে।জেলা শহরের নিউটাউন এলাকার বারো বছরের শিশু প্রতিবন্ধী মম সেন, অজহর রোডের দশ বছরের অভিজিৎ সাহা, কলমাকান্দা উপজেলার রানা গাও গ্রামের আট বছরের ওয়ালিউলস্নাহ। ওদেরও একই অবস্থা। হাটতে চলতে পারে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেনা। লেখাপড়াও বন্ধ। এ চিত্র জেলার প্রায় ১০ হাজার শিশু প্রতিবন্ধীর অধিকাংশেরই।
জেলা সমাজ কল্যান অধিদপ্তর জানিয়েছে,জেলায় মোট ১ হজার ৩৪৫ জন শিশু প্রতিবন্ধী স্কুলে যায়। এদের মধ্যে মাত্র ২২৩ জনকে উপবৃত্তি দেয়া হয়।
১০ হাজার শিশু প্রতিবন্ধীর মধ্যে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হয় ১৬০ জনকে। গত এক মাসে মোবাইল ক্যাম্পের মাধ্যমে মদন, আটপাড়া ও নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ছয় শতাধিক প্রতিবন্ধী শিশুকে শারীরিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিশুর মায়েরা জানিয়েছেন, আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা। তাদের সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডাঃ মোঃ গোলাম সারোয়ার তালুকদার (কনসালটেন্ট, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র,নেত্রকোনা ) জানান, নেত্রকোনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র প্রতিবন্ধীর সংখ্যাই বেশী। এরা এতদিন চিকিৎসা পায়নি। আমরা চেষ্টা করছি। দক্ষ লোকবলের অভাবে পরিপূর্ন চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদপে নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।
প্রতিবেদক :- লাভলু পাল চৌধুরী