পৃথিবীতে যে দিন থেকে মানুষের আভিরভাব ঘটে সেদিন থেকেই সুস্থ্য স্বাভাবিক শিশুর পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে অম মানব শিশু জন্ম গ্রহন করেছে এবং এখনো করছে, হয়ত ভবিষ্যতেও করবে । এদেরকে আমরা প্রতিবন্ধী শিশু নাম দিয়েছি । অনেকে এসব শিশুকে প্রতিবন্ধী শিশু না বলে differently able child বা ভিন্ন মাত্রায় যোগ্য শিশু বলে সম্বোধন করেন । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দনি এশিয়ায় আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশ সমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ । তাই হিসাব অনুযায়ী আমরা বলতে পারি বাংলাদেশের বর্তমান লোকসংখ্যা ১৫ কোটি হলে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী লোক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি
৫০ লক্ষ । যদিও বাংলাদেশে সরকারীভাবে প্রতিবন্ধীদের কোনো পরিসংখ্যান নেই । বেসরকারীভাবে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কিছু পরিসংখ্যান রয়েছে । ১৯৯৬ সালে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পল্লী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি বে-সরকারী সংস্থার জরীপ অনুযায়ী এখানে প্রায় ৫.৪০% লোক কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধী । এছাড়া এখানকার চরম দারিদ্রতা, পুষ্টিহীনতা, অশিক্ষা, মহামারীর ব্যপকতা, বৈজ্ঞানিক সচেতনতার অভাব, চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বল্পতা, নারী ও শিশু নির্যাতন ইত্যাদি কারণে প্রতিবছর এই সংখ্যা উলেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । অন্যদিকে এই বিরাট সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশু উপযুক্ত যত্ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের অভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে । জনসংখ্যার এই বিরাট অংশ জাতীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহন থেকে সম্পুর্নভাবে বঞ্চিত রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিবন্ধী শিশুর মাঝেও রয়েছে বিপুল মেধা, প্রতিভা, জ্ঞান, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও সামর্থের উপাত্ত - যা জাতীয় উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখতে পারে ।